
সিক্যুয়েল
ছবিগুলো যেন ঠিক প্রথমটার মতো জমে না, এই অনুযোগ করার কোনো সুযোগ পাবেন না
থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড ছবিটি দেখলে। বরং এখানে ঘটেছে উল্টো। এতটাই
সাদামাটা ছিল প্রথম দফার থর যে থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড নিয়ে তেমন আশাই ছিল
না। পরিচালক হিসেবে কেনেথ ব্র্যানাগ সরে গিয়ে এবার যোগ দিয়েছেন অ্যালান
টেইলর। আর অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
সিনেপ্লেক্সে
বসে ছবিটি দেখতে গিয়ে মনে প্রশ্ন জাগল—সুপারহিরোরা কী করেন? শতকোটি বছর ধরে
তাঁরা বাঁচিয়ে আসছেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। থরের এবারের মিশনও এ রকমই। তবে শুধু
পৃথিবী নয়, তার নিজের রাজ্য অ্যাসগার্ড আর প্রেমিকা জেন ফস্টারের
নিরাপত্তা নিয়েও বাজি ধরতে হয়েছে। খলনায়ক লোকি নয়, বরং থর আর লোকি মিলেই
মোকাবিলা করেছে ম্যালকিথের।
শতকোটি বছরের ঘুমে ম্যালকিথ অপেক্ষা করছিল
কবে সে নিজের রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারবে। আর তার হাতিয়ার হলো ইথার।
ঘটনাচক্রে জেন সংক্রমিত হয় ইথার দ্বারা। জেনের নিরাপত্তার জন্যই থর তাকে
নিয়ে আসে অ্যাসগার্ডে। পিছু নেয় ম্যালকিথ। তবে ইথার না পেয়ে ফিরে যেতে হয়
তাকে। ওডিনের নির্দেশ অমান্য করে থর, লোকি আর জেন হাজির হয় ম্যালকিথের
নিজের রাজ্যে তাকে নিশ্চিহ্ন করতে।
অ্যাভেনজারস দেখার পর যাঁরা আশা
করছিলেন থর আর লোকির জমজমাট লড়াইয়ের, তাঁরা প্রথমার্ধে হতাশ হবেন। তবে একটু
ধৈর্য ধরুন। জেন-থরের পুনর্মিলন নয়, ম্যালকিথ-থরের মারকাট নয়। এই ছবির
সবচেয়ে বড় আকর্ষণই বোধ হয় থর আর লোকির ম্যালকিথের পিছু নিয়ে সেই যাত্রা।
লোকির সাহায্য নিতেই হয়েছে থরকে, কিন্তু থর তাকে বিশ্বাস করছে না মোটেই।
লোকি বলছেও না তাকে বিশ্বাস করতে। ‘ট্রাস্ট মাই রেজ’ এই হলো লোকির জবাব।
মায়ের মৃত্যুর শোধ নিতেই তো লোকি এসেছে এখানে। তবে লোকির আসল উদ্দেশ্য কী? এ
নিয়ে ধাঁধায় পড়বেনই দর্শকেরা। এমনকি তার মৃত্যুদৃশ্য দেখেও সিদ্ধান্তে আসা
যাবে না। থর-ম্যালকিথ যখন এক দুনিয়া থেকে আরেক দুনিয়ায় লড়াই চালিয়ে
যাচ্ছে, তখনো মনে হবে, কী হলো লোকির? সন্দেহ নেই, এই ছবির সেরা অস্ত্র
লোকি।
মারভেলের সবচেয়ে সাদামাটা খলচরিত্র ম্যালকিথ কি না সেটা নিয়ে
আলোচনা শুরু হতে পারে। থরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাকে মেনে নিতে
কষ্টই হয়েছে। এমনকি আগে থেকে জানা না থাকলে কিছুটা সময় দর্শক হয়তো বুঝবেনই
না মূল খলনায়ককে।
জেন-থর-সিফ হলেও হতে পারত এমন ত্রিভুজ প্রেম। সেই
আশায়ও পানি পড়েছে। আর জেন চরিত্রে নাটালি পোর্টম্যান তো রীতিমতো হতাশাজনক।
বরং নজর কেড়েছেন জেনের সহকারী ডারসি চরিত্রে ক্যাট ডেনিংস। লোকি আর ডারসিকে
নিয়ে কি হতে পারে না নতুন চলচ্চিত্র?
হাতুড়ি হাতে, আলখাল্লা পরে
নায়কোচিত ভাবগাম্ভীর্য ধরে রাখা কঠিনই। তবে এ পরীক্ষায় দারুণভাবে সফল ক্রিস
হেমসওয়ার্থ। তাঁর ট্রেনে চড়ে পথের হদিস জানতে চাওয়ার দৃশ্যটায় হাসি চেপে
রাখা মুশকিল, প্রয়োজনও নেই।
আগামী বছর মুক্তি পাবে অ্যাভেনজারস ছবির দ্বিতীয় সিক্যুয়েল। সে পর্যন্ত সময় কাটানোর উপায় হিসেবেই না হয় দেখুন এই ছবিটা।
থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড
পরিচালক: অ্যালান টেইলর
অভিনয়: ক্রিম হেমসওয়ার্থ (থর), নাটালি পোর্টম্যান (জেন ফস্টার), টম হিডলস্টন (লোকি), ক্রিস্টোফার একলস্টন (ম্যালকিথ) রুহিনা তাসকিন