Sunday, 19 January 2014

bangla binodon

মাহির ‘দেশা: দ্য লিডার’

মাহি  ছবি: প্রথম আলোমাহি এবার অভিনয় করছেন দেশা: দ্য লিডার ছবিতে। গত মঙ্গলবার বিকেলে এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোরে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ছবির অভিনয়শিল্পী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক, পরিচালকসহ অন্য কলাকুশলীরা।
মাহি বলেন, ‘দেশা: দ্য লিডার ছবিটি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি। হাত-পা রীতিমতো কাঁপছে—চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনয় করতে পারব কি না, এই ভেবে।’
দেশা: দ্য লিডার রোমান্টিক ও অ্যাকশন ধাঁচের চলচ্চিত্র। পরিচালনা করছেন সৈকত নাসির। ছবিতে আরও অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, সোহেল খান, মঞ্জুরুল করিম, শিপনসহ অনেকে। গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করছেন শফিক তুহিন।
দেশা: দ্য লিডার ছবিটি প্রযোজনা করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

bangla sinema

জোনাকির আলো ছবিতে মীম ও কল্যাণমুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অডিয়েন্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে জোনাকির আলো। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় ছবিটি পরিচালনা করেছেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। ৭ জানুয়ারি উৎসবে ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দ্বাদশ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে থার্ড আই। খালিদ বললেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। সময়স্বল্পতার কারণে মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হতে পারিনি। তবে তারা ই-মেইলের মাধ্যমে আমাকে পুরস্কারের সনদ পৌঁছে দিয়েছে।’ গত ডিসেম্বর মাসে ছবিটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। পরিচালক জানান, এ বছর মার্চ মাসে দেশের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
জোনাকির আলো মূলত ত্রিমুখী ভালোবাসার গল্প। ছবিতে অভিনয় করেছেন মীম, ইমন, কল্যাণ, দিতি, তারিক আনাম খান, সামস সুমন, গাজী রাকায়েতসহ আরও অনেকে।

hollywood

সিনে রিভিউ

থর হরিকম্প!

থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ডসিক্যুয়েল ছবিগুলো যেন ঠিক প্রথমটার মতো জমে না, এই অনুযোগ করার কোনো সুযোগ পাবেন না থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড ছবিটি দেখলে। বরং এখানে ঘটেছে উল্টো। এতটাই সাদামাটা ছিল প্রথম দফার থর যে থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড নিয়ে তেমন আশাই ছিল না। পরিচালক হিসেবে কেনেথ ব্র্যানাগ সরে গিয়ে এবার যোগ দিয়েছেন অ্যালান টেইলর। আর অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
সিনেপ্লেক্সে বসে ছবিটি দেখতে গিয়ে মনে প্রশ্ন জাগল—সুপারহিরোরা কী করেন? শতকোটি বছর ধরে তাঁরা বাঁচিয়ে আসছেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। থরের এবারের মিশনও এ রকমই। তবে শুধু পৃথিবী নয়, তার নিজের রাজ্য অ্যাসগার্ড আর প্রেমিকা জেন ফস্টারের নিরাপত্তা নিয়েও বাজি ধরতে হয়েছে। খলনায়ক লোকি নয়, বরং থর আর লোকি মিলেই মোকাবিলা করেছে ম্যালকিথের।
শতকোটি বছরের ঘুমে ম্যালকিথ অপেক্ষা করছিল কবে সে নিজের রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারবে। আর তার হাতিয়ার হলো ইথার। ঘটনাচক্রে জেন সংক্রমিত হয় ইথার দ্বারা। জেনের নিরাপত্তার জন্যই থর তাকে নিয়ে আসে অ্যাসগার্ডে। পিছু নেয় ম্যালকিথ। তবে ইথার না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। ওডিনের নির্দেশ অমান্য করে থর, লোকি আর জেন হাজির হয় ম্যালকিথের নিজের রাজ্যে তাকে নিশ্চিহ্ন করতে।
অ্যাভেনজারস দেখার পর যাঁরা আশা করছিলেন থর আর লোকির জমজমাট লড়াইয়ের, তাঁরা প্রথমার্ধে হতাশ হবেন। তবে একটু ধৈর্য ধরুন। জেন-থরের পুনর্মিলন নয়, ম্যালকিথ-থরের মারকাট নয়। এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণই বোধ হয় থর আর লোকির ম্যালকিথের পিছু নিয়ে সেই যাত্রা। লোকির সাহায্য নিতেই হয়েছে থরকে, কিন্তু থর তাকে বিশ্বাস করছে না মোটেই। লোকি বলছেও না তাকে বিশ্বাস করতে। ‘ট্রাস্ট মাই রেজ’ এই হলো লোকির জবাব। মায়ের মৃত্যুর শোধ নিতেই তো লোকি এসেছে এখানে। তবে লোকির আসল উদ্দেশ্য কী? এ নিয়ে ধাঁধায় পড়বেনই দর্শকেরা। এমনকি তার মৃত্যুদৃশ্য দেখেও সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। থর-ম্যালকিথ যখন এক দুনিয়া থেকে আরেক দুনিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তখনো মনে হবে, কী হলো লোকির? সন্দেহ নেই, এই ছবির সেরা অস্ত্র লোকি।
মারভেলের সবচেয়ে সাদামাটা খলচরিত্র ম্যালকিথ কি না সেটা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। থরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাকে মেনে নিতে কষ্টই হয়েছে। এমনকি আগে থেকে জানা না থাকলে কিছুটা সময় দর্শক হয়তো বুঝবেনই না মূল খলনায়ককে।
জেন-থর-সিফ হলেও হতে পারত এমন ত্রিভুজ প্রেম। সেই আশায়ও পানি পড়েছে। আর জেন চরিত্রে নাটালি পোর্টম্যান তো রীতিমতো হতাশাজনক। বরং নজর কেড়েছেন জেনের সহকারী ডারসি চরিত্রে ক্যাট ডেনিংস। লোকি আর ডারসিকে নিয়ে কি হতে পারে না নতুন চলচ্চিত্র?
হাতুড়ি হাতে, আলখাল্লা পরে নায়কোচিত ভাবগাম্ভীর্য ধরে রাখা কঠিনই। তবে এ পরীক্ষায় দারুণভাবে সফল ক্রিস হেমসওয়ার্থ। তাঁর ট্রেনে চড়ে পথের হদিস জানতে চাওয়ার দৃশ্যটায় হাসি চেপে রাখা মুশকিল, প্রয়োজনও নেই।
আগামী বছর মুক্তি পাবে অ্যাভেনজারস ছবির দ্বিতীয় সিক্যুয়েল। সে পর্যন্ত সময় কাটানোর উপায় হিসেবেই না হয় দেখুন এই ছবিটা।
থর: দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড
পরিচালক: অ্যালান টেইলর
অভিনয়: ক্রিম হেমসওয়ার্থ (থর), নাটালি পোর্টম্যান (জেন ফস্টার), টম হিডলস্টন (লোকি), ক্রিস্টোফার একলস্টন (ম্যালকিথ)  রুহিনা তাসকিন

bollywood

আয়ের ৯০ ভাগই দাতব্য কাজে ব্যয় করেন সালমান

  সালমান খানসবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম সালমান খান। বড় ও ছোট পর্দায় কাজ করে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ উপার্জন করেন তুমুল জনপ্রিয় এ তারকা অভিনেতা। তবে এই বিপুল অঙ্কের আয়ের সামান্যই তিনি নিজের পেছনে খরচ করেন। মাত্র ১০ শতাংশ অর্থ নিজের জন্য রেখে বাকিটা তিনি বিলিয়ে দেন দাতব্যকাজে।

মজার বিষয় হলো, সালমান নিজেই জানেন না তাঁর কাছে কী পরিমাণ টাকা-পয়সা আছে। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলেও সালমান তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন শুরু করেছেন মাত্র পাঁচ মাস আগে। সম্প্রতি এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বাবা সেলিম খানের কাছ থেকেই দাতব্যকাজের মতো মহৎ গুণটি পেয়েছেন সালমান। সত্যিকার অর্থে যাঁরা অভাবী তাঁদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে খুবই পছন্দ করেন সেলিম খান। বাবার পরামর্শ ও উত্সাহে অসহায় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন সালমান।

সালমান পেশাগত কাজ শুরুর পর থেকেই দাতব্যকাজের জন্য দিক-নির্দেশনা পেয়েছেন তাঁর বাবার কাছ থেকে। শুরু থেকেই সালমান যে আয় করতেন তার ১০ শতাংশ তাঁকে খরচ করতে দিতেন সেলিম খান। সালমান তাঁর ইচ্ছেমতো তা খরচ করতেন। বাকি ৯০ শতাংশ আয় সালমান ব্যয় করতেন দাতব্যকাজে। বর্তমানে সালমান তাঁর আয়ের সিংহভাগই খরচ করেন তাঁর বিয়িং হিউম্যান দাতব্য সংস্থার পেছনে।
সালমানের বোন আলভিরা জানিয়েছেন, টাকা-পয়সার ব্যাপারে খুবই উদাসীন সালমান। আর্থিক লেনদেন থেকে সব সময় দূরে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। জীবনের ৪৮টি বছর পার করলেও এত দিন পর্যন্ত নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে মাথা ঘামাননি খান সাহেব। কখনোই চেক বইয়ে স্বাক্ষর করেননি তিনি।
অবশেষে পাঁচ মাস আগে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন শুরু করেছেন সালমান। শুরুর দিকে চেক বইয়ে সই দিতে তাঁর ব্যাপক উত্সাহ থাকলেও ইদানীং তা আর নেই। চেক বইয়ে স্বাক্ষর দিতে দিতে এর মধ্যে রীতিমতো তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। এই হ্যাপা থেকে বাঁচতে তাঁর পক্ষে চেক বইয়ে সই দেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের পটানোর চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু কারও কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না বেচারা সালমান।     

indian bangla


bangla binodon


‘মে মাসে মা হচ্ছি’

পূর্ণিমা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী। একাধিকবার পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার। ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর এই অভিনয়শিল্পী বিয়ে করেছেন। শিগগিরই মা হতে যাচ্ছেন তিনি

পূর্ণিমাঅনেক দিন আপনার কোনো খোঁজখবর নেই...
ঠিক। আমি কিছুটা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। তবে এই সময়টাতে অনেক ভালো আছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার মধ্যেই ছিলাম। এখন অবশ্য ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় বসে কথা বলছি।
যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন কেন?
আসলে আমি মা হতে যাচ্ছি। মাস চারেক আগে চিকিৎসকের কাছে যখন জানতে পারলাম, তখন থেকেই নিজের মতো করে থাকার চেষ্টা করছি।
নতুন অতিথি...
চিকিৎসকের কথামতো মে মাসে আমি মা হচ্ছি।
পূর্ণিমার ভাবনায়...
আমি এখন আমার অনাগত সন্তানকে নিয়ে ভাবছি। মা হওয়া যে কতটা সৌভাগ্যের, আনন্দের এবং পাশাপাশি কষ্টের—তা অনুভব করছি।
কী নিয়ে কাটছে সময়?
ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। শ্বশুরবাড়ির আদর-আপ্যায়ন শেষে এখন ঢাকায়। সন্তান হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকব। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটে মাতৃত্বকালীন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানছি। বলতে পারেন, আমার এখনকার ভাবনা-চিন্তা সবকিছুই অনাগত সন্তানকে ঘিরে।
ক্যামেরার সামনে শেষ...
চলচ্চিত্রে আমি শেষ ছায়া-ছবির জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। এরপর একটি বিজ্ঞাপনচিত্র এবং নুযহাত আলভী আহমেদের টেলিছবির কাজ করেছি। গত বছর রোজার ঈদের পর আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইনি।
চলচ্চিত্রে ফেরার ব্যাপারে কী ভাবছেন...
আপাতত চলচ্চিত্রে ফেরার ব্যাপারে কিছুই ভাবছি না।
মনজুর কাদের

Tuesday, 3 September 2013

ইউরোপ আমেরিকায় যে কেউ চাইলেই অ্যালবাম বের করতে পারে না

ইউরোপ আমেরিকায় যে কেউ চাইলেই অ্যালবাম বের করতে পারে না

'খরতাপে পুড়েছি, বৃষ্টিতে ভিজেছি, একটিবার শুধু তোমাকে দেখারই আশায়, তোমাকে দেখারই আশায়...' গানের কণ্ঠশিল্পী, ইভেন্ট অর্গানাইজার হিসেবে জাহাঙ্গীর সাঈদ শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত একটি নাম। আজ বাংলাভিশনে মিউজিক ক্লাব অনুষ্ঠানে তার একক গানের অনুষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন পর টিভি লাইভ ও সাম্প্রতিক সংগীত বাজার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ

কেমন আছেন? দীর্ঘদিন পর আবারও গান নিয়ে মুখর হলেন, মাঝে বিরতিই বা কেন ছিল?

আসলে সেই অর্থে আমার অবসর বা বিরতি কখনও ছিল না। কারণ সব সময় গানের সাথেই সম্পৃক্ত থেকেছি। লাক্স-চ্যানেল আই বা সিটিসেল মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ আন্তর্জাতিকমানের একেকটি ইভেন্ট আয়োজন করাটাও বিশাল দায়িত্বের কাজ। অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত থেকে এটা করা যায় না। আর গান তো একান্ত নেশার ব্যাপার। তাই এটা ছাড়াও অসম্ভব।

সর্বশেষ অ্যালবাম বের হওয়ার পরও মাঝে অনেকটা বিরতি। আজকের টিভি লাইভে কোন ধরনের গান করবেন?

নিজের কিছু জনপ্রিয় গান করার ইচ্ছে। আর পাশাপাশি কালজয়ী কিছু গান করব সবধরনের শ্রোতাদের জন্য।

বর্তমান অডিও বাজারের এই নাজুক অবস্থায় একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে কী ভাবছেন?

এটা যেকোনো শিল্পীর জন্যই খুব কষ্টের। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রতি ঈদে তিন শ'র ওপরে অ্যালবাম বের হতো। এবং যেই বাজেটেরই অ্যালবাম হোক না কেন, তা থেকে অ্যালবামের লগ্নি খুব সহজে উঠে আসত। আজ সেই কোম্পানিগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। সময়ের সাথে তারা আধুনিক হতে পারেননি। এটা যেমন তাদের ব্যর্থতা। তেমনি সরকারও এটাকে গুরুত্বের সাথে আজও দেখছে না। বা তাদের এই গুরুত্বটা বোঝানোর জন্য শিল্পী হয়ে আমরা তত্পর হয়ে বোঝাতে পারছি না। এরপরে অতি আধুনিকতায় যে ধরনের পাইরেসি বা ডাউনলোডের চক্রের কথা শুনছি, তাতে তো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সংকট হয়। এখন নতুন ছেলেমেয়েরা নিজেদের টাকায় অ্যালবাম করছে। অর্থাত্ একমাত্র টাকায় অ্যালবাম বের করার মানদণ্ড হয়ে গেছে। আমি তো অগণিত দেশে বিভিন্ন স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছি। তো বেশির ভাগ যাতায়াতের সময় প্লেনে যখন ভিনদেশি যাত্রীরা প্রশ্ন করে আমার পেশা কী, যখন বলি আমি সংগীতশিল্পী। আমার এতগুলো অ্যালবাম বের হয়েছে। তখন ওরা যে সম্মানটা দেয়। তা সত্যিই অতুলনীয়। অর্থাত্ ইউরোপ-আমেরিকায় যে কেউ চাইলেই অ্যালবাম বের করতে পারে না। যা আমাদের দেশ বা উপমহাদেশে সম্ভব। এই মানের অবক্ষয়ের কারণেই আজ এই অবস্থা। এদিকে সরকারের দৃষ্টি দিতে হবে।

বিদেশি শোয়ের কথা যখন তুললেন তখন বলি, আপনি যখন প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে শো করছেন বা আয়োজন করছেন। এক্ষেত্রেও অনেক ভুঁইফোড় আয়োজক এখন হয়ে গেছে, তাদের অকর্মের দায়ভার আপনাদের নিতে হয় কী না? কারণ এখন তো অনেক ধরনের স্ক্যান্ডাল-গসিপের খবর শোনা যায়...

এটা তো শুনতেই হয়। ওরা এ বাজারটাকেও নষ্ট করে দিয়েছে। এর ভেতরেও নোংরামি ঢুকে গেছে। এমনও দেশ আছে যেখানে আমি প্রথম বাঙালি কমিউনিটিতে শো আরম্ভ করেছি। যেমন স্পেন, ব্রাসেলস বা চীনে প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে আমি শো করি। কিন্তু বর্তমানে এর কোনো নীতিমালা না হওয়ায় যে যার মতো নোংরা করছে পরিবেশটা।

দেশের বাইরে স্টেজ শোয়ের কোনো অভিজ্ঞতা আছে কী?

অনেক মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ যাবত তো ৭০টির ওপরে দেশে পারফর্ম করেছি। এমন অনেক তারকা আছে যাদের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ আমার হাত ধরে। আর আমাকে যিনি আজ এ পর্যায়ে এনেছেন তিনি আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তো সাবিনা আপার সাথে আমার অনেক দেশ ঘোরা, একসাথে স্টেজ শো করা। সেক্ষেত্রে সাবিনা আপার সাথে অনেক ডুয়েট গানে পারফর্ম করতে হয়। যা হয়তো রেকর্ডিংয়ে তিনি এন্ড্রু দার সাথে গেয়েছিলেন। তো আমি মজা করে বলি, আপা আপনি তো এই গান এন্ড্রু দার সাথে রেকর্ডিংয়ে মাত্র একবার গেয়েছেন। কিন্তু আমি তো এই গান আপনার সাথে কয়েক দেশে কয়েক শতবার গাইলাম। সেই হিসেবে গানটার কপিরাইট কিন্তু আমার। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত অগণিত শিল্পীর সাথে সাক্ষাত্ আমার জীবনের অনেক বড় একটা অর্জন। মাত্র কিছুদিন আগে এ আর রহমানের সাথে আড্ডা-আলাপ হলো। এত বড় মাপের মানুষ অথচ এত অমায়িক তার আচরণ। যা থেকে সত্যিই আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।

কপিরাইট প্রসঙ্গে এখন আপনার নিজের গানগুলো কিভাবে সংরক্ষণ করছেন?

দেখুন নিজের গানগুলো আমি নিজ উদ্যোগেই সংরক্ষণ করছি। কারণ প্রথমেই বলেছি, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে যারা অনেক কালজয়ী গান তৈরি করেছে। প্রযোজক বা সামাজিক ব্যর্থতায় আজ জেমস ভাইয়ের নতুন গান রেডি থাকা সত্ত্বেও রিলিজ দিচ্ছেন না। এলআরবি মুঠোফোনে দীর্ঘদিন পর কিছু গান দিলেন। কিন্তু তার নতুন গান থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমিও সেই আগের বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো সংকলন করে একটা 'বেস্ট অব জাহাঙ্গীর' হিসেবে অ্যালবাম রিলিজের পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই হয়তো তা রিলিজ দেব।